Monday, April 16, 2018
ইফফাতের বহিষ্কারাদেশ তুলে নিল ছাত্রলীগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির পদ থেকে ইফফাত জাহানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁকে স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে সুফিয়া কামাল হলের বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা ইফফাতকে অবরুদ্ধ করেন। এ ঘটনায় তাঁকে প্রথমে হল থেকে, পরে ছাত্রলীগ থেকে এবং সবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।
ইফফাতকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কারের পর সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলতে থাকেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের জেরে তাঁকে (ইফফাত) তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করতে হয়েছে। এই বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
পরে এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি করে ছাত্রলীগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বিষয়টি তদন্ত করছে।
বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলা হয়। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন ছাত্রলীগের সহসভাপতি নুসরাত জাহান ও নিশীতা ইকবাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আজ ইফফাতের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করল ছাত্রলীগ।
আজ সাইফুর রহমান ও জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ইফফাত সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাই সংগঠন থেকে তাঁর ওপর আরোপিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তাদের প্রতিবেদনে ইফফাত সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ঘটনার দিন (মঙ্গলবার গভীর রাত) সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, ইফফাত প্রায়ই ছাত্রীদের ওপর নির্যাতন চালাতেন। তবে এত দিন ভয়ে কেউ মুখ খোলেননি। আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় এদিন রাতে বেশ কয়েকজনকে কক্ষে ডেকে চড়-থাপ্পড় দেন ইফফাত। রাতে ছাত্রীদের চিৎকার শুনে সেখানে যান উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মোর্শেদা খানম। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মোর্শেদা কক্ষের জানালার কাচে লাথি মারেন। এতে তাঁর পা কেটে যায়। খবর পেয়ে অন্য ছাত্রীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ইফফাতকে মারধর করে তাঁকে আটকে রাখেন। তাঁকে বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন অনেকে।
কেউ কেউ মোর্শেদার কেটে যাওয়া পায়ের ছবি তুলে ও ছাত্রী নির্যাতনের কথা লিখে ফেসবুকে শেয়ার করেন।
মোর্শেদা ছাত্রলীগের সুফিয়া কামাল হল শাখার সহসভাপতি। তাঁকে প্রথমে সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ও পরে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ছাত্রী নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের সামনে বিভিন্ন হলের ছাত্ররা জড়ো হয়ে ইফফাতের বহিষ্কারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। ইফফাতকে বহিষ্কারের দাবিতে হলের ভেতরে ছাত্রীরা ও বাইরে কয়েক হাজার ছাত্র বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী হলে প্রবেশ করলে ছাত্রদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। পরে ইফফাতকে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানালে ছাত্ররা ফিরে যান।
ঢাবি থেকে ইফফাতের বহিষ্কার মৌলিক অধিকার পরিপন্থী: আ.লীগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগের সভানেত্রী ইফফাত জাহানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বহিষ্কারাদেশ দেশের মৌলিক অধিকার ও সংবিধানের পরিপন্থী। তাঁকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করাও ঠিক হয়নি বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হাছান মাহমুদ।
আজ শুক্রবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে হাছান মাহমুদ এ কথা বলেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগের সভানেত্রীকে যে প্রক্রিয়ায় ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, সেটি সঠিক ছিল না। ছাত্রলীগ তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে আমি মনে করি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’
তদন্ত ছাড়া ইফফাতকে বহিষ্কার করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘একটি ছাত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আসার পর কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়া মৌখিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে দেওয়ার মতো ঘোষণা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান দিতে পারে—এটি আমার কল্পনারও বাইরে। এটি দেশের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী, সংবিধানপরিপন্থী, যেটি সমীচীন হয়নি। যে কেউ অপরাধ করলে সেটির তদন্ত হতে হবে। তদন্তের পর শাস্তি হবে। এখানে কোনো তদন্তই করা হয়নি।’
গত মঙ্গলবার গভীর রাতে সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, ইফফাত প্রায়ই ছাত্রীদের ওপর নির্যাতন চালাতেন। তবে এত দিন ভয়ে কেউ মুখ খোলেননি। আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় এদিন রাতে বেশ কয়েকজনকে কক্ষে ডেকে চড়-থাপ্পড় দেন ইফফাত। রাতে ছাত্রীদের চিৎকার শুনে সেখানে যান উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মোর্শেদা খানম। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মোর্শেদা কক্ষের জানালার কাচে লাথি মারেন। এতে তাঁর পা কেটে যায়। খবর পেয়ে অন্য ছাত্রীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ইফফাতকে মারধর করে তাঁকে আটকে রাখেন। তাঁকে বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন অনেকে। অনেকে মোর্শেদার কেটে যাওয়া পায়ের ছবি তুলে ও ছাত্রী নির্যাতনের কথা লিখে ফেসবুকে শেয়ার করেন।
মোর্শেদা ছাত্রলীগের সুফিয়া কামাল হল শাখার সহসভাপতি। তাঁকে প্রথমে সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ও পরে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ছাত্রী নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের সামনে বিভিন্ন হলের ছাত্ররা জড়ো হয়ে ইফফাতের বহিষ্কারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। ইফফাতকে বহিষ্কারের দাবিতে হলের ভেতরে ছাত্রীরা ও বাইরে কয়েক হাজার ছাত্র বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী হলে প্রবেশ করলে ছাত্রদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। পরে ইফফাতকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানালে ছাত্ররা ফিরে যান।
ব্রিফিংয়ে বিএনপির সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, ৮ এপ্রিল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা ও টেলিফোনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশনা একই সূত্রে গাঁথা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে টেলিফোন করে নির্দেশনা দিয়েছেন কীভাবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিকীকরণ করা যায়। একটি অডিও বার্তায় এ কথা শোনা গেছে। আরও বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, তাদের পেট্রল বাহিনী ঢুকিয়ে দিয়ে এই আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা ছিল।
বিএনপি পরগাছা দলে রূপান্তরিত হয়েছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, অন্যরা যখন আন্দোলন করে, তখন সেটিকে খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরে তারা টিকে থাকা চেষ্টা করে। তেল-গ্যাস রক্ষার আন্দোলনে আশ্রয় নিয়ে তারা টিকে থাকার চেষ্টা করেছিল। সর্বশেষ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আশ্রয় নিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করে বিএনপি।
আশিকুরের বুকে কার গুলি?
কোটা সংস্কারের আন্দোলন করতে গিয়ে বুকে গুলি লাগে আশিকুর রহমানের। গুলিতে তাঁর যকৃৎ ও ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখনো শরীরের ভেতরে রয়ে গেছে গুলিটি। আশিকুর এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। তবে ডাক্তাররা বলছেন, তিনি শঙ্কামুক্ত।
আশিকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। ৮ এপ্রিল দিবাগত রাত দুইটার দিকে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। আশিকুরের বন্ধুরা জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের একটি পক্ষ রাতে যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে, তখনই গুলিবিদ্ধ হন আশিকুর। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা শিখ সম্প্রদায়ের উপাসনালয় গুরুদুয়ারা নানক শাহীর ঠিক সামনে হঠাৎ তিনি ঢলে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ছোড়া গুলিই আশিকুরের বুকে লাগে।
শুধু আশিকুরই নন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুরুতর আহত হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুজন ছাত্র। তাঁদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. শাহরিয়ার হোসেন, অন্যজন নাট্যকলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. তানভীর হাসান। পুলিশের ছোড়া ছররা গুলির আটটি স্প্লিন্টার লাগে শাহরিয়ারের পিঠে। আর পুলিশের লাঠিপেটায় মাথা ফেটে যায় তানভীর হাসানের।
পরিবার জেনে যেতে পারে, এমন আশঙ্কায় আশিকুরের বুকে গুলি লাগার বিষয়টি ধামাচাপা দেন তাঁর বন্ধুরা। ঘটনার পাঁচ দিন পর আশিকুর একেবারেই শঙ্কামুক্ত এমনটা বোঝার পর তাঁরা বিষয়টি তাঁর পরিবারকে জানান। এদিকে বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও আশিকুরকে পাঠিয়ে দেয় আইসিইউতে।
গতকাল আইসিইউতে গেলে কথা হয় আশিকুরের এক সহপাঠীর সঙ্গে, যিনি ঘটনার সময় আশিকুরের সঙ্গে ছিলেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা রাত দুইটার দিকে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেন। তখন টিএসসি থেকে আন্দোলনকারীরা পাল্টা ধাওয়া দিলে ছাত্রলীগের কর্মীরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে উপাচার্যের বাসভবনের দিকে সরে যান। এ সময় আশিকুর গুলিবিদ্ধ হন।
আশিকুর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগের চিকিৎসক ফারুক হোসাইনের অধীনে আছেন। জানতে চাইলে চিকিৎসক বলেন, ‘গুলিটা ঢুকে আর বের হয়নি। ভেতরেই আছে। ইনজুরিটা লিভার এবং লাংয়ে। তবে তাঁর অবস্থা এখন খারাপ না।’
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর এবং ঢাকা কলেজের নেতা-কর্মীরা ছিলেন। আন্দোলনকারীদের ধাওয়া খেয়ে তাঁদেরই অন্তত তিনজন গুলি করেছিলেন।
জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় ছাত্রলীগের কেউ গুলি ছোড়েনি।’ ওই দিন ক্যাম্পাসের ওই স্থানে পুলিশ ছিল না, তা হলে কে গুলি করল, প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কে গুলি ছুড়েছে সেটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত করলে হয়তো বের করতে পারবে।
আশিকুরের বড় ভাই আকরাম হোসেন এবং মা আফরোজা আক্তারকে পাওয়া যায় কেবিনে। ওই একই কেবিনে চিকিৎসাধীন পুলিশের ছররা গুলিতে আহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. শাহরিয়ার হোসেন।
মা আফরোজা আক্তার বলেন, পরশু রাতে তাঁরা এসেছেন। এখন আশিকুর ভালো আছেন।
শহীদুল্লাহ হলের বর্ধিত ভবনের বাসিন্দা শাহরিয়ার হোসেনের পিঠজুড়ে কালো গোল গোল আটটি দাগ। কেবিনের একটি বিছানায় গুটিসুটি মেরে শুয়ে ছিলেন। শাহরিয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, শাহবাগে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল আর রাবার বুলেট ছুড়ছিল। তখন পেছন ফিরলে তাঁর পিঠে এসে গুলি লাগে। নাট্যকলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. তানভীর হাসানের আহত হওয়ার ঘটনাটা একটু ভিন্ন। পুলিশের হাত থেকে আন্দোলনকারীদের বাঁচাতে তিনি মুখোমুখি হয়ে গিয়েছিলেন টিয়ার শেল আর লাঠি নিয়ে ধাবমান পুলিশের। দুই হাত দুদিকে ছড়িয়ে তাঁর দাঁড়িয়ে যাওয়ার ছবিটি এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের লাঠির আঘাতে তানভীরের মাথা ফেটে গিয়েছিল।
আহত হওয়ার সময়কার ঘটনা স্মরণ করতে গিয়ে তানভীর বলেন, আন্দোলনকারীদের সামনে থেকে তিনি পুলিশকে উদ্দেশ করে হাতজোড় করে আর কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ না করতে অনুরোধ করেন। পুলিশও তাঁদের বসে যেতে বলে। আন্দোলনকারীরা বসলেও পুলিশ ধেয়ে আসে। তিনি তখন বুঝতে পারলেন যে পুলিশকে যদি কয়েক মিনিট ঠেকানো না যায়, তাহলে এক থেকে দেড় শ আন্দোলনকারী বেধড়ক মার খাবেন। এই ভেবে তিনি একাই উঠে গিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে যান। এরপর পুলিশ তাঁকে বেধড়ক পিটুনি দেয়। তাঁর সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন।
তানভীর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময় বকশীবাজার এলাকায় বিএনপি-ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনি আহত হয়েছিলেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে তিনি বললেন, ‘আমি প্রথমে একজন ছাত্র। তারপর ছাত্রলীগ নেতা। আদর্শিক জায়গা থেকে এই আন্দোলন আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়েছে বলেই অংশ নিয়েছিলাম।’
মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের দাবি
মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল গাইবান্ধা, সাতক্ষীরা এবং সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মানববন্ধন হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের স্থানীয় শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
কর্মসূচি থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছেন। অথচ সেই মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে তাঁদের অসম্মান করা হচ্ছে।
তাঁরা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান অক্ষুণ্ন রাখা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইনের পাশাপাশি রাজাকারদের সন্তানদের বাংলাদেশের সব চাকরিতে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানান।
এদিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নীলফামারীর সৈয়দপুরে জাতীয় পার্টির এক কর্মিসভায় বলেছেন, কোটা সংস্কারের আন্দোলন ছিল ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলন। প্রধানমন্ত্রী তা উপলব্ধি করতে পেরে কোটাপদ্ধতি একেবারে বাতিল করেছেন। তবে কোটাপদ্ধতি একেবারে বাতিল করা ঠিক হবে না।
পশ্চিমা হামলায় আসাদের কী?
রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগে গত শুক্রবার সিরিয়ার তিনটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। কিন্তু এতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের নেতৃত্বাধীন সরকারের কি কোনো অসুবিধে হচ্ছে? বিশ্লেষকেরা বলছেন, এতে আসাদের সুবিধেই বরং বেশি। গতবারের মতো এবারও সিরীয় সংকট নিরসনে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না পশ্চিমা দেশের ক্ষেপণাস্ত্র।
ঘটনার শুরু এক সপ্তাহ আগে, ৭ এপ্রিল, দামেস্কের পূর্বাঞ্চলীয় উপশহর দুমায় রাসায়নিক হামলা চালানো হয়। বিদ্রোহীদের দখলে ছিল শহরটি। পশ্চিমা বিশ্বের অভিযোগ, শহরটি পুনর্দখল করতেই আসাদ সরকার সেখানে রাসায়নিক হামলা চালায় এবং এতে আক্রান্ত হয় বেসামরিক নারী, পুরুষ ও শিশুরা। ওই হামলার এক দিন পরই দুমায় থাকা বিদ্রোহীরা সরকারি বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। এতে করে পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগের ভিত্তি আরও শক্ত হয়।
এরপরই শুরু হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের হামলা চালানোর হুমকি। শেষে শুক্রবার তা বাস্তবে রূপ নেয়। সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, তিনটি দেশই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহার করেছে। লোহিত সাগরে অবস্থান করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বি-১ ল্যান্সার বোমারু উড়োজাহাজও ব্যবহার করেছে। পেন্টাগনের একটি সূত্র জানিয়েছে, সিরিয়ার তিনটি স্থানকে লক্ষ্য করে মোট ১০৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে কমপক্ষে ৫৯টি টমাহক মিসাইল। এ ছাড়া বি-১ ল্যান্সার বোমারু উড়োজাহাজ থেকে নিক্ষেপ করা হয় ১৯টি স্ট্যান্ডঅফ মিসাইল।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্য টর্নেডো ও টাইফুন যুদ্ধবিমান দিয়ে সিরিয়াতে হামলা চালিয়েছে। সিএনএন জানিয়েছে, মোট আটটি স্টর্ম শ্যাডো নামের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে যুক্তরাজ্য। আর সিরিয়ায় হামলার ক্ষেত্রে ফ্রান্স ব্যবহার করেছে রাফালে ও মিরেজ যুদ্ধবিমান। নির্ধারিত স্থানে নয়টি স্কাল্প ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে দেশটি।
সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করতেই এ হামলা। তবে দুমায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে সিরিয়া। দেশটির সরকারের দাবি, রাসায়নিক গ্যাস হামলা বিদ্রোহীদের একটি সাজানো ঘটনা। আসাদ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সও। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, এরপরও রাসায়নিক হামলা হলে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র।
গত হামলায় কী ফল?
শুক্রবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঠিক এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র সিরীয় সরকার নিয়ন্ত্রিত এক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। তখন মোট ৫৯টি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। সেটিও করা হয়েছিল রাসায়নিক হামলার প্রত্যুত্তর হিসেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, গত বছরের এপ্রিল মাসে চালানো হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।
সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত বছরের ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের খুব সামান্যই ক্ষতি হয়েছিল। গৃহযুদ্ধকবলিত সিরিয়ায় সংঘর্ষ থামাতে তা কোনো ভূমিকা রাখেনি। বন্ধ হয়নি রক্তপাত।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক কেভিন ব্যারন বলেন, ‘সেটি কোনো কার্যকর হামলা ছিল না। বিমানবন্দরের একটি রানওয়েকে লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু সিরিয়ার আসাদ সরকার দ্রুতই তা পুনর্নির্মাণ করে ব্যবহার করতে শুরু করেছে।’
এনবিসি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে চালানো হামলার এক মাসের মধ্যেই হোমস প্রদেশের শেরাত বিমানঘাঁটি পুনর্ব্যবহার করতে শুরু করেছিল আসাদ সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।
শুক্রবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর ঘোষণা দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, আগের বছরের হামলায় আসাদ সরকারের বিমানবাহিনীর মোট সক্ষমতার ২০ শতাংশ ধ্বংস হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের এই দাবির সত্যাসত্য কখনোই নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সামরিক বিশ্লেষক জেনারেল ব্যারি ম্যাককেফরে এনবিসি নিউজকে বলেন, ‘সিরিয়ার চলমান যুদ্ধে ওই হামলার কোনো প্রভাবই ছিল না। উল্টো তাতে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেটি হয়তো বিশ্বের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা ছিল। কিন্তু বেসামরিক মানুষের ওপর রাসায়নিক হামলা বন্ধ হয়নি।’
এবার কী অবস্থা?
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কিছুক্ষণ পরই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের কার্যালয় থেকে টুইট করা হয়। প্রথম টুইট বার্তায় লেখা ছিল, ‘সম্মানিত ব্যক্তিকে অপমান করা যায় না।’ এর কয়েক ঘণ্টা পর একটি ভিডিওচিত্র পোস্ট করা হয়। তাতে দেখা গেছে, খুবই স্বাভাবিকভাবে দামেস্কে নিজের কার্যালয়ে ঢুকছেন বাশার আল-আসাদ।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দামেস্কের রাস্তায় আসাদ সরকারের সমর্থনে মিছিল করেছে। ওই সময় সাধারণ মানুষের হাতে সিরিয়ার জাতীয় পতাকার সঙ্গে সঙ্গে ছিল ইরান ও রাশিয়ার পতাকাও। এই দুটি দেশই আসাদ সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। যার জোরেই টিকে আছেন বাশার আল-আসাদ।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও শোনি ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক আমর আল-আজম বলেন, সিরিয়া ইস্যুতে নিজেদের প্রভাব খাটানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিশ্বশক্তিগুলো। তারই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছে। এতে সিরিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসবে না। সিরীয় যুদ্ধে বাশার আল-আসাদ জিতছেন।
অধ্যাপক আমর আল-আজম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলো সিরিয়ায় আসাদ সরকারের সামরিক সামর্থ্য কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অন্যদিকে, এটি আসাদের জন্য অনেক বড় বিজয়। তিনি অবশ্যই একে নিজের জন্য ভালো মনে করছেন। যতটুকু হারিয়েছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি অর্জন করেছেন বাশার আল-আসাদ।’
রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি ও তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সিরিয়ার সক্ষমতা কতটুকু—সেই ব্যাপারে অস্পষ্টতা রয়েছে। এই বিষয়টি পুরোপুরি অভিযোগ ও অস্বীকারের বৃত্তে বন্দী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, শুক্রবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাঁদের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। সব ক্ষেপণাস্ত্রই নির্ধারিত স্থানে আঘাত হেনেছে বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের। তবে আসাদের মিত্রদেশ রাশিয়ার বক্তব্য, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই ভূপাতিত করা হয় এবং ক্ষতির পরিমাণ ন্যূনতম।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সিরিয়ার যেসব নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন হামলার পক্ষে, তাঁরা দ্রুতই হতাশ হয়ে পড়বেন। কারণ তাঁরা ভেবেছিলেন, হামলা হবে আরও বড় পরিসরে। আর বিদ্রোহীদের বক্তব্য, এই হামলা আসাদ সরকারকে সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে উৎসাহ জোগাবে। এতে আরও বেশিসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক পড়বে মৃত্যুঝুঁকিতে।
যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলোর আশা, সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে জেনেভার শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি আসবে। কিন্তু তার মধ্য দিয়ে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হবেন—সেটি মনে করার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেন এমিল হোকায়েম। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের এই জ্যেষ্ঠ ফেলো বলেন, ‘এর আগেও অনেক খারাপ পরিস্থিতিতে উতরে গেছেন আসাদ। এবারও তা-ই হবে।’
সিরিয়া সংকটে কী করবে রাশিয়া?
কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ফের সরগরম হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার সাবেক গোয়েন্দা সের্গেই স্ক্রিপাল ইস্যুকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে নতুন করে রাশিয়ার টানাপোড়েন শুরু হয়। যুক্তরাজ্য এবং এর মিত্রদেশগুলো ১৩০ জনের বেশি রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে। জবাবে রাশিয়াও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সমানসংখ্যক কূটনীতিক বহিষ্কার করে।
সের্গেই স্ক্রিপাল ইস্যু কাটতে না কাটতেই এবার সিরিয়া সংকট আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। মার্কিন প্রশাসন সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার যে হুমকি দিয়েছিল, তা বাস্তবে রূপ নিল আজ শনিবার। এদিন ভোরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স একযোগে সিরিয়ার সরকারনিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। সিরিয়া সংকট নিয়ে কার্যত এখন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া মুখোমুখি। তবে রাশিয়া ঝোপ বুঝেই কোপ মারবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এই আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠকের আহ্বান করেছে রাশিয়া।
সিরিয়ায় পশ্চিমা জোটের সামরিক অভিযানে তীব্র নিন্দা জানিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রজোট আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ উপেক্ষ করে সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে। ক্রেমলিনের ওয়েবসাইটে শনিবার সকালে প্রকাশিত এক বার্তায় পুতিন বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে আঘাত হানা হয়। পুতিন সিরিয়ায় এই অভিযানকে স্বার্বভৌম দেশের ওপর রীতিমতো আগ্রাসন বলে উল্লেখ করেছেন।
সিরিয়ায় পশ্চিমা জোটের অতর্কিত সামরিক অভিযানে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শায়গু সিরিয়ায় সর্বশেষ পরিস্থিতি কেমন রয়েছে, সে বিষয়ে ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়মিত অবহিত করছেন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, সিরিয়ার বিভিন্ন অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স যৌথভাবে ১০০টিরও বেশি এয়ার-গ্রাউন্ড শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট করেছে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী।
সম্প্রতি সিরিয়ার পূর্ব গৌতার বিদ্রোহীনিয়ন্ত্রিত দুমা শহরে রাসায়নিক হামলা হয়। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রাসায়নিক হামলার পেছনে কলকাঠি নেড়েছে সিরিয়ার সরকার ও তাদের সহযোগী দেশ রাশিয়া। আর দামেস্ক ও মস্কো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সিরিয়ায় আসাদ সরকারকে হটাতে দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। আসাদ সরকারের অনুরোধে ২০১৫ সালে সিরিয়ায় সেনা মোতায়েন শুরু করে মিত্রদেশ রাশিয়া। সোভিয়েত ইউনিয়নের আমল থেকেই সিরিয়া মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার অন্যতম শরিক দেশ, সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ভূমধ্যসাগর তীরে অবস্থিত লাটাকিয়ায় রয়েছে রাশিয়ার নৌঘাঁটি। কয়েক বছর ধরে রাশিয়া সেখানে জঙ্গি বিমান, ট্যাংক, সাঁজোয়া সৈন্যবাহী যান মোতায়েন করেছে। এত সব আয়োজনের কারণ হিসেবে বলা যেতেই পারে যে মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়াকে প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে দেখতে চায় ক্রেমলিন। কিন্তু হঠাৎ সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও তাঁদের মিত্রদের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ভূমিকা কেমন হতে পারে, তা-ই দেখার বিষয়।
এখন পর্যন্ত সিরিয়া পশ্চিমা জোটের অভিযানের ইস্যু নিয়ে রাশিয়ার অবস্থান কী হতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে এখন ক্রেমলিন থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
সিরিয়ায় পশ্চিমা জোটের সামরিক অভিযান নিয়ে জরুরি সভা ডেকেছে রুশ ফেডারেল পরিষদ। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কমিটির উপপ্রধান ইভগেনি সেরেবরিনিকোভের রিয়া নভাসতিকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে পশ্চিমা জোট। আগামী সপ্তাহে এ বিষয় নিয়ে আমরা ফেডারেল পরিষদে আলোচনা করব।’
এদিকে রুশ ফেডারেল পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির উপপ্রধান ভ্লাদিমির জাবারোভ রুশ গণমাধ্যমকে বলেন, সিরিয়ার ভূখণ্ডে আঘাত হানা পশ্চিমা জোটের ছোড়া দুই-তৃতীয়াংশ রকেট প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে সিরিয়ার রকেট প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এটি নিঃসন্দেহে সিরিয়ার সেনাবাহিনী যে আধুনিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে তা প্রমাণিত হলো।
কয়েক দিন ধরেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে রাশিয়ার মুদ্রা রুবল ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। আজ শনিবার রাশিয়ার পুঁজিবাজারে ডলারের বিপরীতে রুবলের বিনিময়মূল্য ছিল ৬১ দশমিক ৯৮। সিরিয়ায় পশ্চিমা জোটের হামলার করণে রাশিয়ার পুঁজিবাজার ও রুবলের ধস নামবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। জেরিক ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের সহকারী পরিচালক আন্দ্রেই ভেরিনিকোভ রুশ গণমাধ্যমকে বলেন, আগামী কয়েক দিন সিরিয়ার পরিস্থিতির ওপর রাশিয়ার পুঁজিবাজার নির্ভর করবে এবং একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে যাচ্ছে। আর সিরিয়ায় পশ্চিমা জোটে সামরিক অভিযান দীর্ঘ হলে রাশিয়া একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দায় পড়তে পারে।
আর মাত্র দুই মাস পরই রাশিয়ায় বসতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের আসর। ১৪ জুন থেকে রাশিয়ার ১১টি শহরে মাসব্যাপী বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলাগুলো হবে। বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফুটবলের এই আসরের আয়োজন করার সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে রুশ সরকার। বিশ্বকাপ আয়োজন কোনো হুমকির মুখে পড়ুক, এমন কোনো পথে নিশ্চয়ই এগোবেন না পুতিন। এ একটি পরিস্থিতিতে সিরিয়াকে কেন্দ্র করে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়াবে না রাশিয়া।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের ৩ জনকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, পুলিশ বলছে ডাকা হয়েছে
কোটা সংস্কার আন্দোলনের তিন নেতাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই তিনজন কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক। অবশ্য পুলিশ বলছে, তাঁদের তুলে নেওয়া হয়নি, বরং আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছিল।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর এই তিনজনকে পুলিশ ছেড়ে দেয়।
আন্দোলনকারী সংগঠনের ওই তিন যুগ্ম আহ্বায়ক হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র নুরুল্লাহ নূর, এমবিএর (ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ) ছাত্র রাশেদ খান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ফারুক হোসেন। আজ বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আগামী দুই দিনের মধ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনে ওই তিনজনই উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে রাশেদ খান বক্তব্যে তাঁকে জামায়াত–শিবিরকর্মী হিসেবে একটি দৈনিক পত্রিকায় করা প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানান।
আজ সোমবার সকালে সংবাদ সম্মেলনের ঘণ্টা খানেক পর ওই তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে রিকশা থেকে নামিয়ে একটি বড় মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী আরেক নেতা ও এক দোকান কর্মচারী। পরে যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানও বলেন, তাঁদের তুলে নেওয়া হয়।
যদিও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য প্রথম আলোকে বলেন, তিনজনকে তুলে নেওয়া হয়নি। তাঁদের আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছে। হয়তো এতক্ষণ চলেও গেছেন।
পরে বেলা পৌনে তিনটায় রাশেদের মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে থেকে তুলে নেওয়া হয়। পরে পৌনে তিনটার দিকে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তাঁর বাবাকেও থানায় নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী পরিষদের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন ঘটনা সম্পর্কে জানান, সংবাদ সম্মেলন শেষে বেলা পৌনে একটার দিকে তাঁরা কয়েকজন দুপুরের খাবার খেতে রিকশায় করে চানখাঁরপুল যাচ্ছিলেন। রাশেদ, নুরুল্লাহ ও ফারুক এক রিকশায় ছিলেন। আর তিনি ছিলেন পেছনের রিকশায়। ওই তিনজনকে বহনকারী রিকশাটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশের ফটকের কাছে এলে পেছন থেকে তিনটি মোটরসাইকেল রিকশাটির সামনে গিয়ে গতিরোধ করে। পরে পেছন থেকে আরেকটি সাদা রঙের হাইএস মডেলের মাইক্রোবাস এসে সেখানে থামে। গাড়ি থেকে কয়েকজন নেমে রিকশা থেকে তিন নেতাকে নামিয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায়।
একই তথ্য জানালেন আরেক প্রত্যক্ষদর্শী হাসপাতালের ফটকের উল্টো দিকে খাবারের দোকানের কর্মচারী মো. সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, মোটরসাইকেল ও গাড়ি থেকে নেমে সাত-আটজন ওই রিকশার সামনে দাঁড়ায়। তারা তিনজনকে রিকশা থেকে নামাতে গেলে কিছুটা ধস্তাধস্তি হয়। পরে তিনজনের প্রত্যেককে দুপাশ থেকে দুজন করে ধরে গাড়িতে তুলে নিয়ে দ্রুত চলে যায়।
এর আগে সংবাদ সম্মেলন শেষে দুপুর ১২ টার দিকে রাশেদ খান প্রথম আলোকে জানান, তাঁরা শাহবাগ থানায় যাবেন। তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। এ ব্যাপারে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করবেন।
তুলে নেওয়ার পর তিনজনের ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়।
এই গেইলকে বাতিল ভেবেছিল আইপিএল!
এবারের আইপিএলে নিলামে তৃতীয় দফায় ক্রিস গেইলকে কিনেছিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। একাদশেও জায়গাই পাচ্ছিলেন না। তৃতীয় ম্যাচে সুযোগ পেতেই ৩৩ বলে ৬৩ করলেন, ৭টি চার, ৪টি ছক্কা। ২২ বলে করেছেন ফিফটি। প্রথম ৫৬ রানের ৫২ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। দৌড়ে নিয়েছেন মাত্র ৪ রান! আইপিএলে ১৯তমবারের মতো ম্যাচসেরা, এতবার ম্যান অব দ্য ম্যাচ আর কেউ হননি।
গেইলের কালকের উদ্যাপন নজর কেড়েছে অনেকের। ছবি: এএফপি
এবারের আইপিএলে নিলামে তৃতীয় দফায় ক্রিস গেইলকে কিনেছিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। একাদশেও জায়গাই পাচ্ছিলেন না। তৃতীয় ম্যাচে সুযোগ পেতেই ৩৩ বলে ৬৩ করলেন, ৭টি চার, ৪টি ছক্কা। ২২ বলে করেছেন ফিফটি। প্রথম ৫৬ রানের ৫২ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। দৌড়ে নিয়েছেন মাত্র ৪ রান! আইপিএলে ১৯তমবারের মতো ম্যাচসেরা, এতবার ম্যান অব দ্য ম্যাচ আর কেউ হননি।
ক্রিস গেইল, টি-টোয়েন্টির ব্যাটিং রেকর্ডের দৈত্য! কিন্তু আইপিএল এবার বাতিলই ভাবছিল বুড়ো গেইলকে। ৩৯ বছর বয়স হয়ে যাবে মাস কয় পর। এবারের আইপিএলে দেখাই যেত না তাঁকে। গত জানুয়ারিতে দুই দফায় নিলামে তাঁর নাম উঠলেও কেউ হাত তোলেনি। দানে দানে তিন দানে বিক্রি হয়েছেন। তৃতীয় দফায় তাঁকে কিনেছিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। দলের বীরেন্দর শেবাগ এও বলেছিলেন, গেইল যদি তাঁদের দুই কি তিনটি ম্যাচ জিতিয়ে দেয়, তাতেও দুই কোটি রুপির পয়সা উশুল।
কিন্তু সেই গেইল একাদশে জায়গাই পাচ্ছিলেন না। অবশেষে নিলামের মতোই দানে দানে তিন দান। তাঁকে জায়গা করে দিতে পাঞ্জাবকে দুটি পরিবর্তন আনতে হলো। মার্কাস স্টয়নিসকে বাদ পড়তে হলো, পরিবর্তন এল ওপেনিং জুটিতে। আর তৃতীয় ম্যাচে সুযোগ পেয়েই গেইল বুঝিয়ে দিলেন, বুড়ো বাঘ গুহায় শুয়েই থাবা দিয়ে দুই-চার গন্ডা হরিণ শিকার করতে পারে।
৩৩ বলে ৬৩ করলেন, ৭টি চার, ৪টি ছক্কা। গেইলের তোলা ঝড়েই ১০ ওভারে ১ উইকেটে ১১৫ রান তুলেছিল পাঞ্জাব। চেন্নাইকে দিয়েছিল ১৯৮ রানের লক্ষ্য। রোমাঞ্চকর ম্যাচটা জিতেছে ৪ রানে। গেইল ম্যাচসেরাও হয়েছেন।
শুরুটা করেছিলেন ধীর লয়ে। অলস বাঘের রোদ পোহানোর মতো। আগে একটু শুয়ে-গড়িয়ে নিই। চেন্নাই অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি দ্রুত অফস্পিনও নিয়ে এসেছিলেন হরভজন সিংকে দিয়ে। ৯ বলে করলেন ৫। তিন ওভারে পাঞ্জাব ২০। এরপরই শুরু হলো গেইলের তাণ্ডব। হরভজনের দ্বিতীয় ওভারের শুরুটা হলো চার ও ছক্কা দিয়ে। সবচেয়ে চড়াও হলেন দীপক চাহারের ওপর। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারটায় দুই চার-ছক্কায় গেইল তুললেন ২২ রান।
নিজেও পরে ২২ বলে করেছেন ফিফটি। প্রথম ৫৬ রানের ৫২ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। দৌড়ে নিয়েছেন মাত্র ৪ রান! ফিফটির পর ব্যাটটাকে দুহাতে সন্তানের মতো করে ধরে দোলালেন। নতুন উদ্যাপন পেয়ে গেল ক্রিকেট!
একসময় তো সেঞ্চুরি করে ফেলবেন মনে হচ্ছিল। আইপিএলে ৫টি সেঞ্চুরি আছে গেইলের। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ২০টি সেঞ্চুরি তাঁর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইপিএল ক্যারিয়ারে ২২তম ফিফটিতেই তৃপ্ত থাকতে হলো। টি-টোয়েন্টিতে এটি তাঁর ৬৮ নম্বর ফিফটি, ভাবা যায়! ভাবা যায়, টি-টোয়েন্টিতে গেইল ১১ হাজার রান পেরিয়ে এখন ১২ হাজারের দিকে ছুটছেন! আইপিএলে ১৯তমবারের মতো ম্যাচসেরা, এতবার ম্যান অব দ্য ম্যাচ আর কেউ হননি। যেভাবে শুরু করলেন, সংখ্যাটা নিশ্চয়ই সামনে বাড়বে।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও ছক্কা হাঁকিয়েছেন তাঁর মতো করে। বলেছেন, ‘আবারও এই টুর্নামেন্টে খেলতে পেরে ভালো লাগছে। সকালে একটা টেক্সট পেয়েছিলাম, যেখানে লেখা ছিল, আমি আজ খেলছি। সবচেয়ে ভালো লাগছে আমরা জিতেছি বলে। এটাই ক্রিস গেইল, বন্ধুরা। যে শুধু চার-ছক্কা হাঁকায়, এক-দুই রান নেওয়া নিয়ে মাথাব্যথা নেই।’
গেইলের কালকের উদ্যাপন নজর কেড়েছে অনেকের। ছবি: এএফপি
এবারের আইপিএলে নিলামে তৃতীয় দফায় ক্রিস গেইলকে কিনেছিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। একাদশেও জায়গাই পাচ্ছিলেন না। তৃতীয় ম্যাচে সুযোগ পেতেই ৩৩ বলে ৬৩ করলেন, ৭টি চার, ৪টি ছক্কা। ২২ বলে করেছেন ফিফটি। প্রথম ৫৬ রানের ৫২ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। দৌড়ে নিয়েছেন মাত্র ৪ রান! আইপিএলে ১৯তমবারের মতো ম্যাচসেরা, এতবার ম্যান অব দ্য ম্যাচ আর কেউ হননি।
ক্রিস গেইল, টি-টোয়েন্টির ব্যাটিং রেকর্ডের দৈত্য! কিন্তু আইপিএল এবার বাতিলই ভাবছিল বুড়ো গেইলকে। ৩৯ বছর বয়স হয়ে যাবে মাস কয় পর। এবারের আইপিএলে দেখাই যেত না তাঁকে। গত জানুয়ারিতে দুই দফায় নিলামে তাঁর নাম উঠলেও কেউ হাত তোলেনি। দানে দানে তিন দানে বিক্রি হয়েছেন। তৃতীয় দফায় তাঁকে কিনেছিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। দলের বীরেন্দর শেবাগ এও বলেছিলেন, গেইল যদি তাঁদের দুই কি তিনটি ম্যাচ জিতিয়ে দেয়, তাতেও দুই কোটি রুপির পয়সা উশুল।
কিন্তু সেই গেইল একাদশে জায়গাই পাচ্ছিলেন না। অবশেষে নিলামের মতোই দানে দানে তিন দান। তাঁকে জায়গা করে দিতে পাঞ্জাবকে দুটি পরিবর্তন আনতে হলো। মার্কাস স্টয়নিসকে বাদ পড়তে হলো, পরিবর্তন এল ওপেনিং জুটিতে। আর তৃতীয় ম্যাচে সুযোগ পেয়েই গেইল বুঝিয়ে দিলেন, বুড়ো বাঘ গুহায় শুয়েই থাবা দিয়ে দুই-চার গন্ডা হরিণ শিকার করতে পারে।
৩৩ বলে ৬৩ করলেন, ৭টি চার, ৪টি ছক্কা। গেইলের তোলা ঝড়েই ১০ ওভারে ১ উইকেটে ১১৫ রান তুলেছিল পাঞ্জাব। চেন্নাইকে দিয়েছিল ১৯৮ রানের লক্ষ্য। রোমাঞ্চকর ম্যাচটা জিতেছে ৪ রানে। গেইল ম্যাচসেরাও হয়েছেন।
শুরুটা করেছিলেন ধীর লয়ে। অলস বাঘের রোদ পোহানোর মতো। আগে একটু শুয়ে-গড়িয়ে নিই। চেন্নাই অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি দ্রুত অফস্পিনও নিয়ে এসেছিলেন হরভজন সিংকে দিয়ে। ৯ বলে করলেন ৫। তিন ওভারে পাঞ্জাব ২০। এরপরই শুরু হলো গেইলের তাণ্ডব। হরভজনের দ্বিতীয় ওভারের শুরুটা হলো চার ও ছক্কা দিয়ে। সবচেয়ে চড়াও হলেন দীপক চাহারের ওপর। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারটায় দুই চার-ছক্কায় গেইল তুললেন ২২ রান।
নিজেও পরে ২২ বলে করেছেন ফিফটি। প্রথম ৫৬ রানের ৫২ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। দৌড়ে নিয়েছেন মাত্র ৪ রান! ফিফটির পর ব্যাটটাকে দুহাতে সন্তানের মতো করে ধরে দোলালেন। নতুন উদ্যাপন পেয়ে গেল ক্রিকেট!
একসময় তো সেঞ্চুরি করে ফেলবেন মনে হচ্ছিল। আইপিএলে ৫টি সেঞ্চুরি আছে গেইলের। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ২০টি সেঞ্চুরি তাঁর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইপিএল ক্যারিয়ারে ২২তম ফিফটিতেই তৃপ্ত থাকতে হলো। টি-টোয়েন্টিতে এটি তাঁর ৬৮ নম্বর ফিফটি, ভাবা যায়! ভাবা যায়, টি-টোয়েন্টিতে গেইল ১১ হাজার রান পেরিয়ে এখন ১২ হাজারের দিকে ছুটছেন! আইপিএলে ১৯তমবারের মতো ম্যাচসেরা, এতবার ম্যান অব দ্য ম্যাচ আর কেউ হননি। যেভাবে শুরু করলেন, সংখ্যাটা নিশ্চয়ই সামনে বাড়বে।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও ছক্কা হাঁকিয়েছেন তাঁর মতো করে। বলেছেন, ‘আবারও এই টুর্নামেন্টে খেলতে পেরে ভালো লাগছে। সকালে একটা টেক্সট পেয়েছিলাম, যেখানে লেখা ছিল, আমি আজ খেলছি। সবচেয়ে ভালো লাগছে আমরা জিতেছি বলে। এটাই ক্রিস গেইল, বন্ধুরা। যে শুধু চার-ছক্কা হাঁকায়, এক-দুই রান নেওয়া নিয়ে মাথাব্যথা নেই।’
Subscribe to:
Posts (Atom)
Blogspot Example
-
কোটা সংস্কারের আন্দোলন করতে গিয়ে বুকে গুলি লাগে আশিকুর রহমানের। গুলিতে তাঁর যকৃৎ ও ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখনো শরীরের ভেতরে রয়ে গেছে গ...
-
রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগে গত শুক্রবার সিরিয়ার তিনটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। কিন্...
-
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিশ্চিত ভরাডুবি জেনে বিএনপি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযো...







