Monday, August 12, 2024

Blogspot Example

Wednesday, May 16, 2018

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে একজন বয়স্ক মানুষ ভোট দিতে এসেছেন।




খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে একজন বয়স্ক মানুষ ভোট দিতে এসেছেন। পোলিং অফিসার বললেন, দাদু আপনার ভোট তো হয়ে গেছে, বয়স হয়েছে তো তাই মনে রাখতে পারেন না।

বৃদ্ধ মাথা নাড়িয়ে বললেন, হু তা ঠিক। তবে একটু দেখবেন যে আমার স্ত্রী ভোট দিয়ে গেছেন কি-না? আমার স্ত্রীর নাম কুলসুম বেগম।

পোলিং এজেন্ট ভোটার লিস্ট দেখে বললো– হ্যাঁ দাদু, দাদীর ভোটও তো হয়ে গেছে।
বৃদ্ধ হাউমাউ করে কেঁদে উঠে বললেন–ওগো, এতোদিন ধরে একসাথে ঘর করে এই প্রতিদান?পরপার থেকে তুমি ভোট দিতে আসতে পারো আমার বাসায় তুমি আসতে পারোনা? আমার চাইতে ভোট তোমার প্রিয় হল?

খুলনায় সিটি নির্বাচনে বাবার সঙ্গে ভোট দিল দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে




খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আজ মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে জাল ভোটের প্রবণতা বাড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে। নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের নুরানি বহুমুখী মাদ্রাসা কেন্দ্রে অনেক জাল ভোট পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে স্থানীয় নৌকা–সমর্থিত প্রভাবশালী ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণ দলের এক সদস্যকে অপদস্থ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কেন্দ্রটিতে দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, এক ব্যক্তি তাঁর দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে বের হচ্ছেন। বাবা-ছেলের দুজনের হাতের আঙুলে ভোট দেওয়ার সময় লাগানো অমোচনীয় কালি দেখে এই প্রতিবেদক তাঁদের অনুসরণ করেন। একপর্যায়ে ভোট দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমার ছেলেও ভোট দিয়েছে।’

দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলেটি বলে, ‘নৌকায় ভোট দিয়েছি। টিপু আঙ্কেলকে ভোট দিয়েছি (আওয়ামী লীগের স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আলী আকবর টিপু, প্রতীক ঠেলাগাড়ি)।

দুপুর ১২টার পর নগরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডে প্লাটিনাম উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিদ্রোহী দুই প্রার্থীর মধ্যে হাঙ্গামা দেখা যায়। একপর্যায়ে সিবিএ সভাপতি কাওসার আলী মৃধাকে পুলিশ মারধর করে। এ ঘটনায় কিছু সময় ওই কেন্দ্রে ভোট বন্ধ থাকে। বেলা একটার পর আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক সেখানে যান। তিনি ওই কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

তালুকদার আবদুল খালেক কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার পরপরই প্লাটিনাম উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ অংশে কর্তব্যরত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শেখ আবু মো. মুশফেকুল মোর্শেদের উপস্থিতিতে দুটি বুথে আট-দশ জন নৌকা–সমর্থিত কর্মীকে জাল ভোট দিতে দেখা যায়। কয়েকজন সাংবাদিক জানালা দিয়ে এ দৃশ্য দেখলে ওই প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সরিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের কিছু রেসট্রিকশন আছে।’

কেন্দ্রটির অধিকাংশ বুথেই ধানের শীষের পোলিং এজেন্ট ছিল না। আওয়ামী লীগ–সমর্থিত কর্মীরা বেলা সোয়া একটার দিকে প্লাটিনাম উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উত্তর অংশ থেকে ধানের শীষের পোলিং এজেন্ট শিল্পী নামের এক নারীকে হুমকি-ধমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সুমন সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি শুনেছি পোলিং এজেন্ট চলে গেছেন।’

বেলা দুইটার দিকে খুলনা পিটিআই কেন্দ্রে সরেজমিনে দেখা যায়, সাদিয়া পারভীন নামের একজন ভোটার ভোট দিতে গিয়ে তিনি ভোট দিতে পারেননি। তিনি নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বানিয়া খামার এলাকার বাসিন্দা। তাঁর ভোট দেওয়ার কথা ছিল, খুলনা পিটিআই কেন্দ্রের পরীক্ষণ ভবনে।

সাদিয়া পারভীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ভোট দিতে গেলে ওনারা বলেন, “ভোট হয়ে গেছে। অন্যখানে যান।”’

বয়স কমানোর ওষুধ আবিষ্কার



রূপকথার গল্প শুনে যে কারওরই দীর্ঘজীবী হতে ইচ্ছা করে। তেমনটা অবাস্তব হলেও যৌবন ধরে রাখা এখন আর কল্পবিজ্ঞান নয়। বাস্তবেই সম্ভব বিজ্ঞানের কল্যাণে। কেননা, বয়স কমানোর এমন ওষুধের খোঁজ মিলেছে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার ও বয়স গবেষণা কার্যক্রমের আওতায় বয়স বিরোধী বা বয়স ধরে রাখার ওষুধ আবিষ্কার করেছেন একদল অস্ট্রেলীয় গবেষক। নতুন এ ওষুধের ফলে বদলে যেতে পারে মানুষের বেঁচে থাকার ও মৃত্যুর ধরন। এমনটিই বলছেন অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা।



গতকাল সোমবার (১৪ মে) গবেষণা দলের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কেন ও ব্রায়েন নতুন এ আবিষ্কারের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমি এ আবিষ্কার দেখে ভীষণ শিহরিত হয়েছি। প্রাথমিক যে ফর্মুলাটি পেয়েছি এতে ৬০ বছর বয়সী দেহের কোষকে ৪০ বছর বয়সী করে ফেলা যাবে।’ আবিষ্কৃত এ ওষুধের মাধ্যমে ডিএনএ-এর পরিবর্তন রোধ করা সম্ভব হবে। এতে ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ, কোলেস্টেরল ও বাতের মতো ডিএনএ পরিবর্তনজনিত রোগও প্রতিরোধ করা সম্ভব।

এমন রোগীদের চিকিৎসা করাও সম্ভব হবে এ ওষুধের মাধ্যমে। শিগগিরই এ ওষুধ তৈরি করা শুরু হবে। আগামী বছর নাগাদ ওষুধটি মানুষের ওপর পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হবে। তবে এর জন্য গবেষকদের প্রায় ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রয়োজন এখন।

Tuesday, May 15, 2018

‘স্যাটেলাইটের মালিক কোন দুজন বিএনপিকে প্রমাণ দিতে হবে’



স্যাটেলাইটের মালিক কোন দুজন, বিএনপির কাছে তার তথ্যপ্রমাণ চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তথ্যপ্রমাণ দিতে না পারলে বিএনপিকে উচ্চমূল্য দিতে হবে বলে হুশিয়ারি করেন তিনি।

স্যাটেলাইট নিয়ে বিএনপির সমালোচনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি দেশ ও জাতির সাফল্যকে মেনে নিতে পারে না, হীনমন্যতায় তাদের কোনো জুরি নেই। আমি তো আগেই বলেছি- তাদের দেশপ্রেম নিয়েও মানুষ সন্দেহ করতে শুরু করেছে।

কাদের বলেন, এই স্যাটেলাইটের মালিক বাংলাদেশ এবং দেশের ১৬ কোটি মানুষ। আমরা বিএনপিকেও এর সঙ্গে যুক্ত করি। কিন্তু বিএনপি এটাকে কেন দুজন মানুষের কাছে নিচ্ছে? কোন সেই দুজন মানুষ? এর তথ্যপ্রমাণ বিএনপিকে দিতে হবে। যদি না দিতে পারে তার জন্যও তাদের উচ্চমূল্য দিতে হবে।

দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ সফলভাবে উৎক্ষেপণ হওয়ায় রোববার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

বিকালে ধানমণ্ডি-৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেন শেখ হাসিনা।

এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দিপু মনি, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম, আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, দফতর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের আরও বলেন, আমাদের অনেক ছোট মাঝারি অর্জনের সঙ্গে কতগুলো বড় বড় বিজয়ও হচ্ছে। মোটাদাগে বলতে গেলে তিনটির কথা বলতে হয়। সীমান্ত বিজয়, সমুদ্র বিজয় এবং এখন হচ্ছে মহাকাশ বিজয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ফ্লোরিডার অরলেন্ডো ক্যানেডি স্পেস সেন্টার থেকে যে ঐতিহাসিক শুভযাত্রা সূচনা করল সেটা এখন অন দ্য ওয়ে টু অরবিট। এটা আমাদের জন্য বিশাল বিষয়।

তিনি বলেন, বিশেষ করে যারা সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্ত। এত দিন আমরা ভাড়া করে স্পেস নিয়ে সম্প্রচার করতাম। এখন আমরা নিজেরাই নিজেদের সামর্থ্য দিয়ে সম্প্রচার করতে পারব এবং আমাদের যেটা সাশ্রয় হবে, সেটা এক্সপোর্ট করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের স্বর্ণ দুয়ার উন্মোচিত হলো। তার মানে সমৃদ্ধির আরেকটি ধাপ আমরা অতিক্রম করলাম। এটা শুধু বিজয় নয়, এটা ঐতিহাসিক বিজয়। শুধু সাফল্য নয়, ঐতিহাসিক সাফল্য।

খুলনা সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপির এ অভিযোগ পুরোনো। এটা তাদের ভাঙা রেকর্ড। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন রাজশাহী, সিলেট, বরিশালসহ ৫ সিটিতে তারা জিতেছিল। কিন্তু তারপরও তারা রেজাল্ট নিয়েও নালিশ করেছিল। কাজেই এটা তাদের পুরনো অভ্যাস।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পরে যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, যুব মহিলা লীগ ও কৃষক লীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

খুলনায় আশা-আশঙ্কায় ভোট শুরু



‘আমি ২০১৩ সালে ভোটার হয়েছি। কিন্তু ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে যাইনি একতরফা নির্বাচনের কারণে। সে হিসাবে এবার আমার জন্য প্রথম ভোট। আমি ভোট দিতে চাই। কিন্তু কেন্দ্রে যাব পরিস্থিতি জেনে-বুঝে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যেসব নির্বাচন হয়েছে, তার অবস্থা দেখে আস্থা পাচ্ছি না। পাশাপাশি এখানকার পরিবেশও আমাকে আশাবাদী করতে পারছে না।’ খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এমন মন্তব্য করেন খুলনা বিএল কলেজের শিক্ষার্থী আল আমিন।

একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র রেজাউল করিমের মতে, ভোট ভালোই হবে। এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রার্থীর অবস্থাই ভালো। দুই দলই শক্তিশালী। এ কারণে মানুষের মধ্যে হয়তো শঙ্কা কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ভোট সুষ্ঠু হবে। ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না—এমন কোনো পরিস্থিতি এখানে হবে না।’

খুলনা সিটি করপোরেশনের ভোট নিয়ে আল আমিনদের মতো অনেকের মধ্যে শঙ্কা আছে। আবার রেজাউলদের মতো অনেকেই ভালো ভোটের আশা করছেন। তবে দলভেদে রাজনৈতিক কর্মীদের অবস্থা ভিন্ন। সরকারি দলের কর্মীরা অনেক আশাবাদী। আর বিএনপির কর্মীরা আশঙ্কায়।




এমন আশা ও আশঙ্কার মধ্যেই আজ সকাল আটটা থেকে খুলনা সিটি করপোরেশনে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। কোনো বিরতি ছাড়াই বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। এরপর ফল ঘোষণা। জানা যাবে—কে বিজয়ী হয়ে খুলনার নগরপিতা হচ্ছেন।

নির্বাচনে মেয়র পদে এবার পাঁচজন প্রার্থী। আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক নৌকা এবং বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুজ্জাম্মিল হক হাতপাখা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মিজানুর রহমান বাবু কাস্তে এবং জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুর রহমান লাঙল প্রতীকে মেয়র পদে লড়ছেন।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ১৪৮ জন। ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৩৫ জন।

এবারের নির্বাচনে ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। ভোটকেন্দ্র ২৮৯টি। দুটি ওয়ার্ডের দুটি ভোটকেন্দ্রে ভোট হচ্ছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। সেখানে মেয়র প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক এবং সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতীকে বোতাম চেপে ইভিএমে ভোট দেবেন ভোটাররা।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো ইউনুচ আলী প্রথম আলোকে বলেছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট করার জন্য তাঁদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন ২৪ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য। সাধারণ প্রতিটি কেন্দ্রে এই সংখ্যা ২২ জন করে। এর বাইরে পুলিশের ১১টি স্ট্রাইকিং দল (প্রতিটিতে ১০ জন করে), ৭০টি ভ্রাম্যমাণ দল (প্রতিটিতে ৭ জন করে), ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র‍্যাবের ৩২টি ভ্রাম্যমাণ দল, ৩১ জন নির্বাহী হাকিম ও ১০ জন বিচারিক হাকিম দায়িত্ব পালন করছেন।



নির্বাচন কমিশন বলছে, খুলনায় মোট ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৩৪টিই ঝুঁকিপূর্ণ (কমিশনের ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ)। আর ৫৫টি সাধারণ বা ঝুঁকিমুক্ত কেন্দ্র আছে।

খুলনায় ২০১৩ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি বিজয়ী হন। ওই নির্বাচনে আবদুল খালেদ তালুকদার পরাজিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে খালেক মেয়র নির্বাচিত হন।

খুলনায় নির্বাচনে ভরাডুবি জেনে অভিযোগ করছে বিএনপি: নানক






খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিশ্চিত ভরাডুবি জেনে বিএনপি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে আওয়ামী লীগ।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।

বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, খুলনা সিটি নির্বাচন হচ্ছে। এই নির্বাচন অত্যন্ত আনন্দ, উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব ভোটার ভোটকেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এ দেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া সকাল থেকে যে খবর পরিবেশন করছে, সেই তথ্য অনুসারে এবং আমাদের পাওয়া তথ্য অনুসারে খুলনা মহানগরে যাঁরা ভোটে অংশগ্রহণ করেছেন, আমরা তাঁদের অভিনন্দন জানাই।’

জাহাঙ্গীর কবির নানক অভিযোগ করেন, বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের কার্যক্রম চলছে, সেখানে শুরু থেকেই বিএনপি মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, একদিকে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ভূরি ভূরি অভিযোগ, আরেক দিক থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা—এটা স্ববিরোধী।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী নানক বলেন, ‘নয়াপল্টনের স্থায়ী বাসিন্দা রিজভী সাহেব। আজ সকাল থেকেই এবং তার আগে থেকেই একই কায়দায় তিনি এই ভোটগ্রহণের ব্যাপারে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলছেন।’ তিনি বলেন, খুলনার এই অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য মিডিয়ার সামনে নানাবিধ গুজব রটাচ্ছেন।
বিএনপির অপপ্রচার জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে বলে দাবি করেন নানক। খুলনায় জয়ের আশা ব্যক্ত করেন নানক।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সামসুর নাহার চাপা, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

Blogspot Example