Tuesday, May 15, 2018

রাত পোহালেই সিটি করপোরেশনের ভোট, আছে শঙ্কাও





‘আমি ২০১৩ সালে ভোটার হয়েছি। কিন্তু ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে যাইনি একতরফা নির্বাচনের কারণে। সে হিসেবে এবার আমার জন্য প্রথম ভোট। আমি ভোট দিতে চাই। কিন্তু কেন্দ্রে যাব পরিস্থিতি জেনে-বুঝে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যেসব নির্বাচন হয়েছে, তার অবস্থা দেখে আস্থা পাচ্ছি না। পাশাপাশি এখানকার পরিবেশও আমাকে আশাবাদী করতে পারছে না।’ খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এমন মন্তব্য করলেন খুলনা বিএল কলেজের শিক্ষার্থী আল আমিন।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রেজাউল করিমের মতে, ভোট ভালোই হবে। এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রার্থীর অবস্থাই ভালো। দুই দলই শক্তিশালী। এ কারণে মানুষের মধ্যে হয়তো শঙ্কা কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ভোট সুষ্ঠু হবে। ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না, এমন কোনো পরিস্থিতি এখানে হবে না।’


আল আমিনদের মতো অনেকের মধ্যে শঙ্কা আছে। আবার রেজাউলদের মতো অনেকেই ভালো ভোটের আশা করছেন। তবে দলভেদে রাজনৈতিক কর্মীদের অবস্থা ভিন্ন। সরকারি দলের কর্মীরা অনেক আশাবাদী। আবার বিএনপি কর্মীরা আশঙ্কায়।






রাত পোহালেই ভোট। মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে শুরু হয়ে কোনো বিরতি ছাড়াই বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হবে। এরপর ফল ঘোষণা। জানা যাবে কে বিজয়ী হয়ে খুলনার পরবর্তী নগরপিতা হচ্ছেন।

খুলনার নির্বাচনে মেয়র পদে এবার পাঁচজন প্রার্থী। আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক নৌকা এবং বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুজ্জাম্মিল হক হাতপাখা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে) এবং জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুর রহমান (লাঙ্গল) মেয়র পদে লড়বেন।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ১৪৮ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৫ জন নারী কাউন্সিলর পদে লড়ছেন। এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। ভোট হবে ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রে। দুটি ওয়ার্ডের দুটি ভোটকেন্দ্রে ভোট হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। সেখানে মেয়র প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক এবং সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতীকে বোতাম চেপে ইভিএমে ভোট দেবেন ভোটাররা।

ভোটের আগের দিন সোমবার দিনভর নানা শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা হয়েছে প্রথম আলোর। তাঁরা বলেছেন নিজের ভাবনার কথা। নির্বাচন নিয়ে শেষ মুহূর্তেও তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ, আতঙ্ক, শঙ্কা কাটেনি। এরপরও ভোটাররা একটি ভালো নির্বাচনের প্রত্যাশা করছেন। সবাই চান কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে।

খুলনার ৪ নম্বর ঘাট এলাকায় পাওয়া গেল একদল শ্রমিককে। কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তাঁরা। সবাই একযোগেই বললেন, সকাল আটটার আগেই ভোটকেন্দ্রে যাবেন। পরিস্থিতি ভালো দেখলে ভোট দেবেন। না হলে ফিরে যাবেন। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না, জানতে চাইলে তাঁরা শুরুতে কিছুটা চুপসে যান। পরে আবার বলে ওঠেন, ‘কিছুটা তো আছেই।’ পাল্টা প্রশ্ন তাঁদের, ‘আপনারা দেখছেন না? বুঝছেন না?’

মো. সেলিম নামের একজন ব্যবসায়ী জানালেন, তিনিও সকাল সকাল কেন্দ্রে যাবেন। পরিস্থিতি ভালো দেখলে ভোট দিয়ে বাসায় ফিরে স্ত্রী ও অন্যদের নিয়ে কেন্দ্রে যাবেন। খারাপ দেখলে পরিবারের অন্যদের ভোট দিতে পাঠাবেন না।

সুমাইয়া স্নিগ্ধা নামের এক শিক্ষার্থী জানালেন তাঁর আশঙ্কার কথা। কেন্দ্র কতটা নিরাপদ, সেটার খোঁজখবর নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন তিনি। এই তরুণী বললেন, ভোট দিলে ব্যক্তিগত লাভ নেই। সামষ্টিক লাভ। ভোট দিতে গিয়ে ব্যক্তিগত কোনো ক্ষতি হলে সেটা হবে একান্তই ব্যক্তিগত। ক্ষতি হলে যার জন্য যাব, তিনিও খবর পর্যন্ত নেবেন না।

ইজিবাইকচালক মো. মুন্না জানালেন আটটার আগেই ভোট দিয়ে আসার ইচ্ছা আছে। তিনি বলেন, ‘গন্ডগোল হলে তো পরে হবে। তাই সবার আগেই ভোট দিয়ে চলে আসব।’



কেডিএ রোডে চায়ের দোকানে কথা হলো বেশ কয়েকজনের সঙ্গে। তাঁরা বললেন, ভোট ভালোভাবেই হবে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে ভোটার বা অন্য কারও ওপর কোনো চাপ নেই। তবে বোঝা যাচ্ছে না ভোটের দিন সকালে কী হয়।

ভোটারদের আশঙ্কার মূলে রয়েছে নির্বাচন শুরু হওয়ার পর থেকে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি। প্রধান দুই প্রার্থীর অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগে শুরু থেকে উত্তপ্ত ছিল মহানগরীর নির্বাচনী অঙ্গন। বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ এসেছে গতকাল দুপুরে। সরকারি দল পাল্টা একই অভিযোগ করেছে বিএনপির বিরুদ্ধে। পুলিশের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা-কর্মীদের হয়রানি আর গ্রেপ্তারের অভিযোগ ছিল নিয়মিত। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগও শুরু থেকে করে আসছে বিএনপি।

এরই মধ্যে সোমবার ভোটের আগের দিন শহরের অবস্থা ছিল অনেকটাই থমথমে। ভোট নিয়ে কথা বলতে অনেককেই সতর্কভাব নিতে দেখা গেছে। অবস্থা বুঝে মুখ খুলেছেন। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যেও পরিস্থিতি নিয়ে রয়েছে মিশ্র মূল্যায়ন।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) খুলনার সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির প্রথম আলোকে বলেন, মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা আছে। কয়েক দিন আগে যে উৎকণ্ঠা ছিল তা অনেকটা কমেছে। ভোটের দিন সকালে মানুষের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ যতটা থাকবে, আস্তে আস্তে সেটা বাড়তে পারে। প্রথম দিকে মানুষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। পরে সিদ্ধান্ত নেবেন।

তবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা জেলা সম্পাদক কুদরত ই খুদা মনে করেন, ভোটের পরিবেশ নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ভোটের পরিবেশ এখন অনেকটাই অনিশ্চিত (আনপ্রেডিকটেবল) অবস্থায় চলে গেছে। আজই (সোমবার) দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। একটা নির্বাচনের আগের দিন এ ধরনের কথাবার্তা সন্দেহ তৈরি করে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী প্রথম আলোকে বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট করার জন্য তাঁদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে ২৪ জন পুলিশ ও আনসার। সাধারণ কেন্দ্রগুলোর প্রতিটিতে থাকবে ২২ জন করে। এর বাইরে পুলিশের ১১টি স্ট্রাইকিং দল (প্রতিটিতে ১০ জন করে), ৭০টি ভ্রাম্যমাণ দল (প্রতিটি ৭ জন করে), ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র‍্যাবের ৩২টি ভ্রাম্যমাণ দল, ৩১ জন নির্বাহী হাকিম এবং ১০ জন বিচারিক হাকিম দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচন কমিশন বলছে, খুলনায় মোট ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৩৪টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ (কমিশনের ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ)। আর ৫৫টি সাধারণ বা ঝুঁকিমুক্ত কেন্দ্র আছে।

খুলনায় ২০১৩ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি বিজয়ী হন। ওই নির্বাচনে তালুকদার আবদুল খালেক পরাজিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে খালেক মেয়র নির্বাচিত হন।

মস্তিষ্কের মৃত্যু ঘটলেও জীবন ফিরে পেল কিশোরটি





১৩ বছরের ছেলেটির মস্তিষ্কের মৃত্যু ঘটে গিয়েছিল। চিকিৎসক তো বটেই বাবা-মাও সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন।



এমনকি ছেলের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দানপত্রে সইও করে ফেলেছিলেন। কিন্তু প্রায় অলৌকিকভাবেই সেই ছেলেটি ফিরে এসেছে। ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের আলবামায়।

মার্চে দুর্ঘটনায় পড়ে খুলিতে সাতখানা চিড় ধরেছিল ট্রেনটন ম্যাকিনলের।-খবর আনন্দবাজারপত্রিকা অনলাইনের।


তাকে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, ১৫ মিনিট সাড়া ছিল না তার। পরে সাড়া ফিরলেও মস্তিষ্ক সচল হয়নি। জড় পদার্থের মতোই পড়েছিল সে।
ট্রেনটনের বাবা-মা কঠিন সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেলেছিলেন। সইসাবুদ হয়ে যাওয়ার পর দিন কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র খুলে দেয়ার কথা ছিল।
কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে ঠিক তখনই জ্ঞান ফিরতে শুরু করে ট্রেনটনের।
সে এখনও সুস্থ নয়, আবারও অস্ত্রোপচার হবে। কিন্তু সে উঠে বসছে, গোটা গোটা বাক্যও বলতে পারছে।
ট্রেনটন বলছে, ওর মনে হচ্ছিল ও ফাঁকা মাঠের মধ্য দিয়ে হাঁটছে। সেখান থেকে কী করে হাসপাতালের বিছানায় আবার চোখ খুলল সে জানে না।
মা জেনিফার রেইনডলও বলছেন, ছেলে জীবনে ফেরার আগে একবার স্বর্গ থেকে ঘুরে এসেছে। আর কোনো ব্যাখ্যা নেই আমাদের কারও কাছেই।

তুরস্কের হুশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে অবশ্যই জেরুজালেম ছাড়তে হবে





জেরুজালেম ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তি, তাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল অবশ্যই ফিলিস্তিন ছাড়তে হবে বলে মন্তব্য করেছে তুরস্ক।


সোমবার জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কার্যক্রম শুরুর পর তুরস্কের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের মুখপাত্র বেকির বজদাগ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জেরুজালেম অবশ্যই পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে তা একেবারে কিছুই না। বরং গাজায় গণহত্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিই দায়ী।


এদিকে সোমবার সকাল থেকে ফিলিস্তিনিরা গাজায় বিক্ষোভ করতে থাকলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী নির্বিচারে তাদের ওপর গুলি চালায়। এতে এ পর্যন্ত ৪১ ফিলিস্তিনি নিহত ও প্রায় ২০০০ জন আহত হয়েছে।

জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস, নিন্দা জানাল ওআইসির




জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস খোলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। ৫৭ দেশের মুসলিম জোটটি বলেছে, মার্কিন প্রশাসন সোমবার অন্যায়ভাবে জেরুজালেমে দূতাবাস খুলেছে। যা সুস্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং জেরুজালেম নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থানের প্রতি বুড়ো আঙুল প্রদর্শন।

ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ফোরামের (সিএফএম) বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ জোটের পক্ষে সোমবার রাতে এ বিবৃতি দিয়েছে।

ওআইসি মার্কিন প্রশাসনের অবৈধ ওই সিদ্ধান্তের কঠোর নিন্দা জানানোর পাশাপাশি তা প্রত্যাখান করেছে। মার্কিন প্রশাসনের ওই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি জনগণের ঐতিহাসিক, আইনসম্মত, স্বাভাবিক অধিকারের প্রতি হামলা। ওই পদক্ষেপ জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত অবস্থান, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রতিফলিত আন্তর্জাতিক মতামতকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। যা প্রকাশ্যে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে অবজ্ঞার শামিল।

ওআইসির মতে, মার্কিন প্রশাসনের এ ধরনের দুঃখজনক পদক্ষেপ আল কুদস আল শরিফ এবং ফিলিস্তিন নিয়ে বিদ্যমান সব আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন প্রস্তাব ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ওআইসি বিশ্বাস করে, মার্কিন প্রশাসন নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতি স্ববিরোধিতা করছে আর ফিলিস্তিনের ন্যায়সংগত অধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনকে অবজ্ঞা ও অশ্রদ্ধা করছে। এর মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, মুসলিম উম্মাহর অধিকার এবং ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের কোনো শ্রদ্ধা নেই। ফলে ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কার্যকর ভূমিকা থাকবে না।

ওআইসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দুই রাষ্ট্রের ভিত্তিতে সমাধানের প্রয়াসকে সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের আত্ম-নিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং রাষ্ট্র গঠনের প্রতি সমর্থন যুগিয়ে যাবে।

জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস, গুলিতে ৩৭ ফিলিস্তিনি নিহত



ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আজ সোমবার গাজায় অন্তত ৩৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পবিত্র জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস খোলাকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ দমনে সেনারা গুলি চালায়।

বিবিসি গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলছে, নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হন।


আজ সোমবারই ওই দূতাবাস উদ্বোধন করার কথা। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা ট্রাম্প ও তাঁর স্বামী জেরার্ড কুশনার উপস্থিত থাকবেন। এ পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীরা ওই সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর ও আগুনবোমা ছোড়েন। ইসরায়েলি বাহিনী গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পাল্টা জবাব দেয়। এতে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ট্রাম্প প্রশাসন তেল আবিব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে আনছে। ফিলিস্তিনিরা মনে করে, এই দূতাবাস খোলার অর্থ পুরো জেরুজালেমের নিয়ন্ত্রণ নিতে ইসরায়েলকে ওয়াশিংটনের স্বীকৃতি দেওয়া। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিনিরা।





গাজার ক্ষমতায় থাকা কট্টরপন্থী সংগঠন হামাস ছয় সপ্তাহ ধরে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রায় ৩৫ হাজার ফিলিস্তিনি বিক্ষোভ করছেন। তাঁরা ‘সহিংস দাঙ্গা’ শুরু করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে সেনাবাহিনী।




Saturday, May 12, 2018

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের লাভ-ক্ষতি




বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আয়ু ১৫ বছর। দেশে নিজস্ব স্যাটেলাইট হোক এটি সবাই চায় তবে কিছু কিন্তু বললে ভুল হবে মহা মহা কিন্তু থেকে যায় তা নিম্নরুপ:

""প্রতিবছর স্যাটেলাইট ভাড়া বাবদ বাংলাদেশকে গুনতে হবে ১১০ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই স্যাটেলাইটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডার ভাড়া দিয়ে বাংলাদেশ বছরে আয় করবে ১১৯ কোটি টাকা, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১৫ বছরে মোট আয় করবে ১ হাজার ৭ শত ৮৫ কোটি টাকা।

স্যাটেলাইটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল ভূমি থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে প্রতি বছরে খরচ হবে ২৫ কোটি টাকা, মোট ১৫ বছরে নিয়ন্ত্রণে খরচ হবে ৩৭৫ কোটি টাকা।

সব কিছু খরচ বাবদ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১৫ বছরে আয় করবে ১৪১০ কোটি টাকা, আর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা। চেতনার নামে স্যাটেলাইটের ব্যবসায় ১ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা লস।

এই ১ হাজার ৫৯০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ কে দিবে ???""

গল্পটা যদি এই ভাবে চিন্তা করি তবে কি দাড়ালো, এইবার নিচের অংশটুকু পরে দেখি..

"আগে প্রতিদিন ৬০ টাকা ধরে দুধ কিনতো ।মাসে যাইত ১৮০০টাকা! চিন্তা কইরা দেখলো প্রতিদিন এমতে দুধ না কিনে আস্ত একটা গরু কিন্না ফেললে কেমন হয়! যেমন চিন্তা তেমন কাজ! তারপর একদা একলাখ টাকা দিয়া গিরস্তের আস্ত একটা গরু-ই কিন্না নিল।দুধ এখন নিজেও খাবে সাথে বেচবেও! ভেরি মহৎ পরিকল্পনা!

সমস্যা বাধল গরুর লালন-পালন নিয়া,বাড়িতে গরু পালার লোক আর জায়গা কুনুটাই নাই!

তাই সিদ্ধান্ত হইল গরু নিজ বাড়িত আনা হইবেনা, গরু থাকবে সেই গিরস্তের ঘরেই, তার ভরণপোষণ বাবদ মাসিক ২৫০০ টাকা কইরা গিরস্তরে আলাদা দেয়া হইবে!
তাছাড়া দুধ সংগ্রহ ও বেচা-বিক্রির জন্য আলাদা আরেকজন লোক কে দায়িত্ব দেয়া হইল, সে গিরস্ত আর গরুর মালিকের মইধ্য "সমঝোতা ও মধ্যস্ততা" করবে! তার কনসালটেন্সি ফি বাবদ তাকে মাসে দিতে হইবে আরো ২০০০ টেকা!
.
অত:পর গরুর একখান সুন্দর নাম রাখিয়া গেরামশুদ্ধ প্রচার হইতে লাগিল "আমাদের একখান গরু আছে!আমরা এখন একটা গর্বিত গরুর মালিক! দুধ নিজে খাইয়া বাড়তিটা বেচতেও পারুম!"
.
এইটা এইলো ছ্যাটেলাইট ও গরুর গপ্পো 

আমি রাজাকার




জাফর ইকবাল স্যার কে কবিতাটি(মতিয়ার উদ্দ্যেশ্যে) পড়ার অনুরোধ করছি।আশা করছি,তিনি বুঝতে পারবেন কেন সেদিন মতিয়ার কথার প্রেক্ষিতে ছাত্র সমাজ বুকে 'রাজাকার' লিখতে বাধ্য হয়েছিল।
'আমি রাজাকার'
কাবিল সাদি
----------------------
বাপ দাদারও হয়নি জন্ম
একাত্তরের সালে,
কে তুই আমায় গালি দিলি বল
আজ রাজাকার বলে?
দিয়েছিল যারা ভাষার জন্য
বুকের রক্ত ঢেলে,
কোথায় ছিল,তোর মত বীর
আজ যাবি তুই বলে।
৬ দফার ঐ শহীদের দলে
নেই কেন তোর নাম,
৬৯ এ প্রাণ দিল যারা
কি পেল তারা দাম?
৭১ এ তিরিশ লক্ষ
শহিদের পরিবার
তারাও কেন হয়ে গেল আজ
তোর চোখে রাজাকার।
যারা এনে দিল গোয়ালের গরু
রাধিয়া খাওয়ালো ভাত,
তারে আজ তুই কি করে চেনাস
রাজাকারের জাত।
যে মাঝি বল, পাড় করে দিল
হাতের মুঠিতে প্রাণ,
কত যে মানুষ ঐ পাড়ে গেলো
নাই তার অবদান??
যে কৃষক বা রাখালের দল
ছোট ছোট কচি মুখ
খান সেনাদের খবর নিয়েছে
ছদ্মবেশির রুপ।
আজকে তারে কি করে বলিস
ওরে ও বেহায়া প্রাণী,
খোজ নিয়ে দেখ, আরো যে এমন
অবদান কত খানি।
কত ঘরবাড়ি পুড়ায়ে দিয়েছে
মুক্তিকে দিয়ে ঠাই,
আজকে তাদের রাজাকার বলিস
লজ্জা শরম নাই।
শোনে দেখ তুই, কত মা বোন
দিয়াছে নিজের মান,
রাখিসনি খোজ সেই অভাগার
দিসনি দুমুঠো ত্রাণ।
কোথায় ছিলি সেদিন রে তুই
আজকে এতটা দম,
সময়ে সময়ে পাল্টাস দল
পাল্টাস তোর মন।
জাতির যত শ্রেষ্ঠ বীরেরা
অস্ত্র ধরেছে হাতে,
কেউ পারেনা বলতে এমন
বিকৃত রুচি বোধে।
জনকের প্রতি ক্রোধ ছিল তোর
তুই সেই উন্মাদ,
যার দেশে থেকে আজও কথা কস
কত বড় হিম্মাত!
কৃষক শ্রমিক তোদের কাছে
ভোটের বাজারে দামী,
আজকে তারাই রাজাকার হয়
সে কথা কেমনে মানি।
সব বাঙালিই রাজাকার ছিল
তবে আমিও তাদের দলে,
দে গালি দে নিয়েছি মেনে
আজ রাজাকার বলে।
চেয়ে অধিকার,হই রাজাকার
কেমনে মানিব বল?
দেখিস নে তুই বুকের ভেতর
দ্রোহ ও ক্রোধের ঢল।
অধিকার হারা আমি সে বাঙালি
ক্ষেপিয়া গিয়াছি আজ,
মেনেই নিয়েছি রাজাকার নাম
নেই ভয়,ঘৃণা, লাজ।
তিরিশ লক্ষ শহিদের হয়ে
থুতু দেই তোর মুখে,
ঘৃণিত এ নাম লিখিয়া নিলাম
অভিমানী এই বুকে।
দ্রোহের আগুনে পোড়াশনে আর,
বাঙালি বীরের জাতি,
স্বর্গমর্ত্য হাবিয়া দোজখে
মহা উল্লাসে মাতি।
বিদ্রোহী আমি, হিমালয় ভেঙ্গে
চিৎকার করে বলি,
হ্যা, আমি রাজাকার, আমি রাজাকার
চালা এই বুকে গুলি।

Blogspot Example