Saturday, May 12, 2018

আমি রাজাকার




জাফর ইকবাল স্যার কে কবিতাটি(মতিয়ার উদ্দ্যেশ্যে) পড়ার অনুরোধ করছি।আশা করছি,তিনি বুঝতে পারবেন কেন সেদিন মতিয়ার কথার প্রেক্ষিতে ছাত্র সমাজ বুকে 'রাজাকার' লিখতে বাধ্য হয়েছিল।
'আমি রাজাকার'
কাবিল সাদি
----------------------
বাপ দাদারও হয়নি জন্ম
একাত্তরের সালে,
কে তুই আমায় গালি দিলি বল
আজ রাজাকার বলে?
দিয়েছিল যারা ভাষার জন্য
বুকের রক্ত ঢেলে,
কোথায় ছিল,তোর মত বীর
আজ যাবি তুই বলে।
৬ দফার ঐ শহীদের দলে
নেই কেন তোর নাম,
৬৯ এ প্রাণ দিল যারা
কি পেল তারা দাম?
৭১ এ তিরিশ লক্ষ
শহিদের পরিবার
তারাও কেন হয়ে গেল আজ
তোর চোখে রাজাকার।
যারা এনে দিল গোয়ালের গরু
রাধিয়া খাওয়ালো ভাত,
তারে আজ তুই কি করে চেনাস
রাজাকারের জাত।
যে মাঝি বল, পাড় করে দিল
হাতের মুঠিতে প্রাণ,
কত যে মানুষ ঐ পাড়ে গেলো
নাই তার অবদান??
যে কৃষক বা রাখালের দল
ছোট ছোট কচি মুখ
খান সেনাদের খবর নিয়েছে
ছদ্মবেশির রুপ।
আজকে তারে কি করে বলিস
ওরে ও বেহায়া প্রাণী,
খোজ নিয়ে দেখ, আরো যে এমন
অবদান কত খানি।
কত ঘরবাড়ি পুড়ায়ে দিয়েছে
মুক্তিকে দিয়ে ঠাই,
আজকে তাদের রাজাকার বলিস
লজ্জা শরম নাই।
শোনে দেখ তুই, কত মা বোন
দিয়াছে নিজের মান,
রাখিসনি খোজ সেই অভাগার
দিসনি দুমুঠো ত্রাণ।
কোথায় ছিলি সেদিন রে তুই
আজকে এতটা দম,
সময়ে সময়ে পাল্টাস দল
পাল্টাস তোর মন।
জাতির যত শ্রেষ্ঠ বীরেরা
অস্ত্র ধরেছে হাতে,
কেউ পারেনা বলতে এমন
বিকৃত রুচি বোধে।
জনকের প্রতি ক্রোধ ছিল তোর
তুই সেই উন্মাদ,
যার দেশে থেকে আজও কথা কস
কত বড় হিম্মাত!
কৃষক শ্রমিক তোদের কাছে
ভোটের বাজারে দামী,
আজকে তারাই রাজাকার হয়
সে কথা কেমনে মানি।
সব বাঙালিই রাজাকার ছিল
তবে আমিও তাদের দলে,
দে গালি দে নিয়েছি মেনে
আজ রাজাকার বলে।
চেয়ে অধিকার,হই রাজাকার
কেমনে মানিব বল?
দেখিস নে তুই বুকের ভেতর
দ্রোহ ও ক্রোধের ঢল।
অধিকার হারা আমি সে বাঙালি
ক্ষেপিয়া গিয়াছি আজ,
মেনেই নিয়েছি রাজাকার নাম
নেই ভয়,ঘৃণা, লাজ।
তিরিশ লক্ষ শহিদের হয়ে
থুতু দেই তোর মুখে,
ঘৃণিত এ নাম লিখিয়া নিলাম
অভিমানী এই বুকে।
দ্রোহের আগুনে পোড়াশনে আর,
বাঙালি বীরের জাতি,
স্বর্গমর্ত্য হাবিয়া দোজখে
মহা উল্লাসে মাতি।
বিদ্রোহী আমি, হিমালয় ভেঙ্গে
চিৎকার করে বলি,
হ্যা, আমি রাজাকার, আমি রাজাকার
চালা এই বুকে গুলি।

1 comment:

  1. সত্যি কথাগুলো তুলে ধরছেন ভাই, ধন্যবাদ

    ReplyDelete

Blogspot Example